বাংলায় নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা ও ওষুধ তথ্য

মুখে ঘা বা আলসার (Aphthous Ulcers) একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক সমস্যা। এর কারণে সাধারণ খাবার খাওয়া, কথা বলা এমনকি পানি পান করাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। মুখের ভেতরের এই অস্বস্তিকর ঘা বা ক্ষত দ্রুত নিরাময়ের জন্য চিকিৎসকেরা যে ওষুধটি সবচেয়ে বেশি পরামর্শ দেন, তা হলো Apsol (এ্যাপ্সল) ওরাল পেস্ট। আজকের নিবন্ধে একজন রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা এই ওরাল পেস্টের উপাদান, কাজ, সঠিক ব্যবহার বিধি এবং কিছু জরুরি সতর্কতা নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী বিস্তারিত আলোচনা করব।
জরুরি মেডিকেল ডিসক্লেমার (Medical Disclaimer): এ্যাপ্সল একটি অত্যন্ত কার্যকরী ওরাল পেস্ট হলেও মুখের ঘা যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় বা বারবার হতে থাকে, তবে তা অন্য কোনো বড় শারীরিক জটিলতার লক্ষণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া একটানা দীর্ঘ সময় এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
Table of Contents
Toggleজিহ্বা, মাড়ি বা গালে হওয়া সাধারণ ছোট ছোট সাদাটে বা লালচে ঘা (Recurrent Aphthous Ulcers) দ্রুত শুকিয়ে ফেলতে এটি কাজ করে।
আলজিহ্বা (Uvula) সহ গলার উপরের অংশের বা ভেতরের নরম আবরণের যেকোনো বেদনাদায়ক ক্ষত বা প্রদাহের চিকিৎসায় এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
প্রতিবার প্রধান আহারের পর (সকাল, দুপুর ও রাতে) এবং রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ভালো করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর একটি পরিষ্কার নরম তুলা বা টিস্যু দিয়ে মুখের ভেতরের ক্ষতস্থানটি আলতো করে চেপে শুকিয়ে নিন।
প্রথমে নিজের হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর সামান্য পরিমাণ পেস্ট আঙুলের ডগায় নিয়ে মুখের ভেতরের ক্ষতস্থান বা ঘায়ের ওপর আলতো করে লেপে দিন। পেস্টটি ক্ষতস্থানের ওপর একটি সুরক্ষামূলক আস্তরণ তৈরি করবে। ওষুধ লাগানোর পর হাত আবার ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
দিনে সাধারণত ৪ বার এই পেস্ট ব্যবহার করা যায়। মুখের ক্ষত সম্পূর্ণরূপে ভালো না হওয়া পর্যন্ত এটি ব্যবহার করতে হবে। তবে মনে রাখবেন, একটানা ১০ দিন ব্যবহারের পরও যদি ঘায়ের কোনো উন্নতি দেখা না যায়, তবে অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ওষুধটি লাগানোর সময় খেয়াল রাখবেন যেন এটি কোনোভাবেই চোখের সংস্পর্শে না আসে। যদি ভুলবশত চোখে চলে যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রচুর পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
পেস্টটি লাগানোর পর ক্ষতস্থানে সাময়িক হালকা জ্বালাপোড়া বা সামান্য ব্যথার অনুভূতি হতে পারে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুখ গহ্বরের ভেতরের নরম আবরণে মৃদু প্রদাহ বা অস্বস্তি হতে পারে।
ভুলবশত অতিরিক্ত পেস্ট পেটে চলে গেলে খুব কম ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব বা ডায়রিয়া হতে পারে।
উত্তর: পেস্টটি লাগানোর পর অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা কোনো কিছু খাওয়া বা পানি পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এতে ওষুধটি ক্ষতস্থানের ওপর দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে এবং ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ পায়।
উত্তর: মুখের ঘা সাধারণত ভিটামিনের অভাব (বিশেষ করে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স), পেটের সমস্যা, শক্ত ব্রাশের আঘাত, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে হয়। এটি প্রতিরোধে প্রচুর পানি পান করা, সুষম খাবার খাওয়া এবং মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।
উত্তর: এটি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে) সরাসরি সূর্যালোক ও আর্দ্রতা থেকে দূরে কোনো শুষ্ক ও ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করুন। টিউবের মুখটি ব্যবহারের পর শক্ত করে আটকে রাখুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
এই লেখা শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে। ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সুস্থ থাকার প্রধান চাবিকাঠি হলো একটি সচল পরিপাকতন্ত্র। আমরা প্রতিদিন যে শর্করা, আমিষ কিংবা চর্বিযুক্ত খাবার খাই, তা…
মার্চ 9, 2024
আধুনিক যুগের তীব্র প্রতিযোগিতা, মানসিক চাপ কিংবা পারিপার্শ্বিক নানা কারণে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া অত্যন্ত সাধারণ…
মার্চ 9, 2024বাংলায় সহজ ভাষায় ওষুধ নির্দেশিকা, রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার এবং মেডিকেল পাঠ্যক্রম।
© মেডিকেল গুরুকুল। এই সাইটের তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক; ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।