বাংলায় নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা ও ওষুধ তথ্য

হৃদযন্ত্রের রক্তনালী প্রসারিত করে এনজাইনা পেকটোরিস (Angina Pectoris – বুক ব্যথা) প্রতিরোধ এবং হার্ট ফেইলিয়রের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত একটি অর্গানিক নাইট্রেট ভ্যাসোডাইলেটর ওষুধ হলো Esmo (ঈসমো)।
বাংলাদেশে সরবরাহকৃত এই ওষুধটির মূল কার্যকরী উপাদান হলো আইসোসরবাইড মনোনাইট্রেট (Isosorbide Mononitrate)। এটি মূলত ইমিডিয়েট-রিলিজ (Immediate-release) ট্যাবলেট যা সেবনের পর দ্রুত রক্তে শোষিত হয়ে হৃদপিণ্ডে রক্তের প্রবাহ উন্নত করে এবং এনজাইনা অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। বাজারে এটি ২০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট ফর্মে ব্লিস্টার প্যাকে (প্রতি বাক্সে ১০ × ১০টি ট্যাবলেট) পাওয়া যায়। আজকের আলোচনায় আমরা ঈসমো ২০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট-এর উপাদান, চিকিৎসাগত নির্দেশনাবলী, সেবনবিধি, বায়ো-কেমিক্যাল কার্যপদ্ধতি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ড্রাগ মিথস্ক্রিয়া এবং এর বিশেষ সতর্কতা নিয়ে বিস্তারিত জানব।
মেডিকেল সতর্কতা: ঈসমো একটি এনজাইনা প্রতিরোধক (Prophylactic) ওষুধ। এটি হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র বুকে ব্যথার তাৎক্ষণিক উপশমের জন্য ব্যবহৃত হয় না; সেক্ষেত্রে দ্রুত কার্যকর সাবলিঙ্গুয়াল নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করা উচিত।
Table of Contents
ToggleEsmo হলো একটি শর্ট/ইমিডিয়েট-অ্যাক্টিং নাইট্রেট ভ্যাসোডাইলেটর, যা হৃদপিণ্ডের কাজ সহজ করে এবং বুক ব্যথা কমায়।
ওষুধের শ্রেণি: নাইট্রেট ভ্যাসোডাইলেটর / অ্যান্টি-এনজাইনাল এজেন্ট (Nitrate Vasodilator / Anti-anginal Agent)।
উপাদান ও ফর্মুলেশন:
ঈসমো ২০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট (Esmo 20 mg Tablet): প্রতিটি ট্যাবলেটে রয়েছে আইসোসরবাইড মনোনাইট্রেট ২০ মি.গ্রা.।
ঈসমো ট্যাবলেট মূলত নিম্নলিখিত হৃদরোগ সংক্রান্ত চিকিৎসায় নির্দেশিত:
এনজাইনা পেকটোরিস প্রতিরোধ (Prevention of Angina Pectoris): ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ বা ধমনী সংকুচিত হওয়ার কারণে সৃষ্ট বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি প্রতিরোধে।
কনজেসটিভ হার্ট ফেইলিয়ার (Congestive Heart Failure – CHF): কার্ডিয়াক অকার্যকারিতায় হৃদপিণ্ডের পাম্পিং সক্ষমতা বাড়াতে অন্যান্য ডিজিটালিস বা মূত্রবর্ধক ওষুধের সাথে সহযোগী হিসেবে।
করোনারী ধমনীর রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি: হৃদপিণ্ডের পেশীতে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে।
ঈসমো সাধারণত ভরা পেটে বা খালি পেটে সেবন করা যায়, তবে চিকিৎসকের দেওয়া সময়সূচি কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়।
সাধারণ সেবনমাত্রা: ১টি ট্যাবলেট (২০ মি.গ্রা.) দিনে ২ বার সেব্য।
নাইট্রেট টলারেন্স এড়ানোর নিয়ম: শরীরে নাইট্রেটের কার্যকারিতা ধরে রাখতে দুটি ট্যাবলেটের সেবনকালের মাঝে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টার একটি বিরতি নিশ্চিত করা হয় (যেমন: সকাল ৮টা এবং বিকেল ৪টা)।
নাইট্রিক অক্সাইড রূপান্তর: আইসোসরবাইড মনোনাইট্রেট রক্তনালীর মসৃণ পেশীতে সক্রিয় নাইট্রিক অক্সাইডে (NO) রূপান্তরিত হয়।
ভ্যাসোডাইলেশন: এটি গুয়ানাইলেট সাইক্লেস এনজাইমকে উদ্দীপিত করে সাইক্লিক জিএমপি (cGMP) বৃদ্ধি করে, যা শিরা ও ধমনীকে প্রসারিত করে।
প্রিলোড ও আফটারলোড হ্রাস: শিরা সম্প্রসারিত হওয়ার ফলে হৃদপিণ্ডে রক্ত ফিরে আসার চাপ (Preload) কমে যায় এবং কার্ডিয়াক অক্সিজেনের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
নাইট্রেট ব্যবহারের কারণে রক্তনালী সম্প্রসারিত হওয়ার ফলে কিছু মৃদু থেকে মাঝারি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে:
সাধারণ প্রতিক্রিয়া: মাথা ব্যথা (চিকিৎসার শুরুতে সর্বাধিক পরিলক্ষিত), মাথা ঘোরা, মাথা ঝিমঝিম করা, শরীর দুর্বল লাগা বা ঝিমুনি ভাব।
পরিপাক ও কার্ডিয়াক প্রতিক্রিয়া: বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা, বুক ধড়ফড় করা (Palpitations), দ্রুত হৃদস্পন্দন (Tachycardia), নিম্ন রক্তচাপ (Hypotension)।
অন্যান্য: অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব বা পায়খানার অনুভুতি, উদ্বেগ ও অস্থিরতা (Restlessness)।
প্রতিনির্দেশনা (যাদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ):
অবস্ট্রাকটিভ হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি (HOCM) ও মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপ্স।
ইনফেরিওর মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (যেখানে ডান নিলয় বা Right Ventricle জড়িত)।
উচ্চ ইন্ট্রাক্রেনিয়াল প্রেশার (মাথায় চাপ বৃদ্ধি) বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ।
গ্লুকোমা (Glaucoma) ও কার্ডিয়াক টেম্পোনেড।
হাইপোভোলেমিয়া, ধমনীর হাইপোক্সেমিয়া ও কোরপালমোনালি।
ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের ওষুধ (Sildenafil/Tadalafil) সেবনকারী রোগীদের ক্ষেত্রে (বিপজ্জনক প্রেসার ড্রপের ঝুঁকি)।
উচ্চ রক্তচাপরোধী ওষুধ ও বিটা ব্লকার: রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার ও ভ্যাসোডাইলেটর: মাথা ঘোরা ও হাইপোটেনশনের ঝুঁকি বাড়ায়।
ফেনোথায়াজিন ও ট্রাইসাইক্লিক এন্টি-ডিপ্রেস্যান্টস (TCA): প্রেসার অতিরিক্ত কমিয়ে দিতে সহায়তা করে।
অ্যালকোহল: অ্যালকোহলের সাথে সেবণে তীব্র নিম্ন রক্তচাপ ও মূর্ছা যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে: ভ্রূণ বা শিশুর ওপর নাইট্রেটের সুরক্ষার পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তাই অতীব প্রয়োজন ছাড়া এটি সেবন করা উচিত নয়। কেবল চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শেই এটি সেব্য।
ঈসমো ২০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট: প্রতি বাক্সে ১০ × ১০ (১০০টি) ট্যাবলেট ব্লিস্টার প্যাকে থাকে।
সংরক্ষণ: ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, সরাসরি আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ফার্মাকোলজি হলো বিজ্ঞানের যে শাখা যা জীবদেহের ওপর ওষুধের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে:
ফার্মাকোকাইনেটিক্স (Pharmacokinetics): শরীর ওষুধকে কীভাবে গ্রহণ ও নিষ্কাশন করে—অর্থাৎ শোষণ (Absorption), টিস্যুতে বিস্তার (Distribution), মেটাবলিজম (Metabolism) এবং রেচন (Excretion)।
ফার্মাকোডিনামিক্স (Pharmacodynamics): ওষুধ শরীরে প্রবেশ করার পর তা নির্দিষ্ট রেসেপ্টরে যুক্ত হয়ে কীভাবে শারীরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও রোগের নিরাময় সাধন করে।
হ্যাঁ। রক্তনালী প্রসারণের কারণে চিকিৎসার প্রথম দিনগুলোতে মাথা ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। শরীর মানিয়ে নিলে এটি সাধারণত কমে যায়; তবে বেশি কষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
না। ঈসমোর সাথে অ্যালকোহল গ্রহণ করলে রক্তচাপ হঠাৎ মারাত্মকভাবে কমে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
না। সাধারণ ট্যাবলেট হওয়ায় এটি এক গ্লাস পানি দিয়ে গিলে সেবন করতে হবে।
এই লেখা শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে। ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সুস্থ থাকার প্রধান চাবিকাঠি হলো একটি সচল পরিপাকতন্ত্র। আমরা প্রতিদিন যে শর্করা, আমিষ কিংবা চর্বিযুক্ত খাবার খাই, তা…
মার্চ 9, 2024
আধুনিক যুগের তীব্র প্রতিযোগিতা, মানসিক চাপ কিংবা পারিপার্শ্বিক নানা কারণে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া অত্যন্ত সাধারণ…
মার্চ 9, 2024বাংলায় সহজ ভাষায় ওষুধ নির্দেশিকা, রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার এবং মেডিকেল পাঠ্যক্রম।
© মেডিকেল গুরুকুল। এই সাইটের তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক; ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।