নামকরণ, প্রথম কোষের সৃষ্টি, কোষের বৈশিষ্ট্যসমূহ | এইচএসসি জীববিজ্ঞান

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কখনো নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন? আমাদের যে এই শরীর, হাত-পা, চোখ-মুখ – সব মিলিয়ে কেমন একটা আস্ত সায়েন্স ফিকশন সিনেমা মনে হয় না? এই মুহূর্তে আপনি যখন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে লেখাটা পড়ছেন, আনমনে চোখের পলক ফেলছেন, কিংবা লম্বা একটা শ্বাস নিচ্ছেন। আপনার কি একবারও মনে হয় আপনার শরীরের ভেতরে ঠিক এই মুহূর্তে কী বিশাল এক তুলকালাম কাণ্ড চলছে?

জীববিজ্ঞান বইয়ের প্রথম অধ্যায়টা খুললেই ‘কোষ ও এর গঠন’ নিয়ে এত এত খটমটে নাম আর ছবি দেখে ভয় পেয়ে যায় অনেকেই।  কিন্তু বিজ্ঞানকে যদি শুধু পরীক্ষার খাতার জন্য পড়েন, তবে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটাই আপনার অজানা থেকে যাবে। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আপনার শরীরে এই মুহূর্তে প্রায় সাঁইত্রিশ ট্রিলিয়ন (এক ট্রিলিয়নে এক লাখ কোটি!) কোষ কাজ করে চলেছে। এরা কেউ চুপচাপ বসে নেই, কিছু না কিছু করছে। মানুষের বানানো যেকোনো সুপার-কম্পিউটার বা আধুনিক কারখানার চেয়ে এরা বহুগুণ বেশি বুদ্ধিমান, নিখুঁত আর গোছানো।

আজ আমরা ভারী কোনো মুখস্থবিদ্যা নিয়ে কথা বলব না। একদম গল্পের ছলে আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের এই ক্ষুদ্রতম কারখানাটির ভেতরে একটু উঁকি দিয়ে দেখব।

কোষ

রবার্ট হুকের সেই বিখ্যাত ভুল আর আমাদের শুরু

বিজ্ঞানের ইতিহাস ঘাঁটলে অদ্ভুত সব ঘটনা পাওয়া যায়। কোষ আবিষ্কারের গল্পটাও সেরকম। ১৬৬৫ সালের কথা। রবার্ট হুক নামের এক ইংরেজ ভদ্রলোক নিজের বানানো একটা সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্র নিয়ে বসলেন। তাঁর শখ হলো বোতলের ছিপি (যাকে আমরা কর্ক বলি)-এর একটা পাতলা টুকরো কেটে যন্ত্রের নিচে রেখে দেখার।

তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, ভেতরে ছোট ছোট অসংখ্য ফাঁকা কুঠুরি। ঠিক যেন মৌমাছির চাক, কিংবা প্রাচীন মঠের সাধু-সন্ন্যাসীদের থাকার ছোট ছোট কামরা। ল্যাটিন ভাষায় এই কামরাগুলোকে বলা হতো ‘Cella’। সেখান থেকেই তিনি এর নাম দিলেন ‘Cell’ বা কোষ।

কিন্তু মজার ব্যাপারটা কী জানেন? রবার্ট হুক আসলে কোনো জীবিত কোষ দেখেননি! তিনি দেখেছিলেন গাছের বাকলের মৃত কোষের শক্ত দেয়াল। বেচারা টেরও পাননি যে, এই মৃত দেয়ালগুলোর ভেতরেই একদিন স্পন্দিত হতো জীবনের সব জাদুকরী রসায়ন। পরবর্তীতে ১৬৭৪ সালে ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক তাঁর উন্নত অণুবীক্ষণ যন্ত্রে প্রথমবারের মতো জ্যান্ত কোষ দেখতে পান। সেই থেকে শুরু হলো আমাদের অণু-জগতের এক নতুন যাত্রা।

পৃথিবীতে প্রথম প্রাণ এল কোথা থেকে?

খুব স্বাভাবিক একটা প্রশ্ন। পৃথিবীতে প্রথম কোষটি এল কীভাবে? আকাশ থেকে তো আর টুপ করে কিছু পড়ে না। বিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘অ্যাবিওজেনেসিস’ (Abiogenesis) বা রাসায়নিক বিবর্তন।

একটু চোখ বন্ধ করে আজ থেকে সাড়ে তিনশো কোটি বছর আগের পৃথিবীর কথা ভাবুন তো! চারদিকে কেবল উত্তাল সমুদ্র, আগ্নেয়গিরির ফুটন্ত লাভা আর আকাশে প্রচণ্ড বজ্রপাত। বাতাসে শ্বাস নেওয়ার মতো কোনো অক্সিজেন নেই। আছে কেবল মিথেন, অ্যামোনিয়া আর হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো বিষাক্ত সব গ্যাস।

প্রকৃতির কী অদ্ভুত খেয়াল! ওই ভয়ঙ্কর পরিবেশেই বজ্রপাতের প্রচণ্ড শক্তিতে গ্যাসগুলো একে অপরের সাথে ধাক্কা খেয়ে তৈরি করল জীবনের প্রথম উপাদান—অ্যামাইনো অ্যাসিড আর ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অণুগুলো সেই উত্তপ্ত সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে একদিন একটা চর্বিজাতীয় ঝিল্লির (Lipid membrane) ভেতরে আটকে পড়ল। ব্যস! তৈরি হয়ে গেল প্রথম ‘প্রোটোসেল’ (Protocell) বা আদি কোষ।

এটি কোনো জ্যান্ত প্রাণী ছিল না, কিন্তু এটি বাইরের পরিবেশ থেকে নিজেকে আলাদা করে ভেতরে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করার এক জাদুকরী ক্ষমতা পেয়ে গিয়েছিল। ওই একটা ছোট্ট বুদবুদ থেকেই আজকের এই বিশাল পৃথিবী, এই আমাজন জঙ্গল, নীল তিমি আর আমাদের এই মানবজাতি! ভাবলে গায়ে কাঁটা দেয় না?

‘আদর্শ কোষ’ বলে কি সত্যিই কিছু আছে?

বইয়ের পাতায় আমরা উদ্ভিদ বা প্রাণীকোষের যে গোলগাল, সব-অঙ্গ-থাকা ‘আদর্শ কোষ’-এর ছবি দেখি, প্রকৃতিতে কিন্তু তেমন কিছুর অস্তিত্ব নেই। ওটা কেবল আমাদের পড়ার সুবিধার জন্য বানানো একটা কাল্পনিক ম্যাপ।

প্রকৃতি বড়ই হিসেবি। সে কখনো অপচয় পছন্দ করে না। যার যতটুকু দরকার, তাকে ঠিক ততটুকুই দেয়। যেমন ধরুন, আমাদের রক্তের লোহিত রক্তকণিকার কথা। এর কাজ হলো মালবাহী ট্রাকের মতো ফুসফুস থেকে অক্সিজেন বয়ে নিয়ে সারা শরীরে পৌঁছানো। বেশি অক্সিজেন নেওয়ার জন্য তো ভেতরে খালি জায়গা দরকার! তাই প্রকৃতি লোহিত রক্তকণিকার ভেতর থেকে নিউক্লিয়াস আর মাইটোকন্ড্রিয়া—সব বের করে ছুড়ে ফেলেছে।

আবার আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ বা নিউরনের দিকে তাকান। এগুলো কয়েক ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। কারণ এদের কাজ হলো মস্তিষ্ক থেকে দ্রুতগতিতে সারা শরীরে ইলেকট্রিক সিগন্যাল বা নির্দেশ পাঠানো। এই যে কাজের প্রয়োজনে কোষের নিজের গড়ন বদলে ফেলা—এটিই হলো প্রকৃতির বিবর্তনীয় বুদ্ধি (Evolutionary Intelligence)।

কোষের ভেতরের এক জাদুকরী শহর

একটি জ্যান্ত কোষের ভেতরে যে থকথকে তরল পদার্থ থাকে, তাকে আমরা বলি প্রোটোপ্লাজম। প্রখ্যাত বিজ্ঞানী হাক্সলি একে বলেছিলেন “জীবনের ভৌত ভিত্তি”। এটি কেবল পানি নয়, এটি একটি অদ্ভুত কোলয়ডাল মিশ্রণ—যেখানে হাজার হাজার প্রোটিন আর রাসায়নিক পদার্থ সারাক্ষণ নিজেদের ভেতর গল্প করে চলেছে।

চলুন, কোষের ভেতরের এই জাদুকরী শহরের অলিগলি একটু ঘুরে আসি।

শহরের কড়া দারোয়ান: কোষঝিল্লি

কোষের চারপাশের আবরণটি কিন্তু ইটের দেয়ালের মতো বোকা নয়। ১৯৭২ সালে বিজ্ঞানী সিঙ্গার ও নিকলসন এর নাম দিয়েছিলেন ‘ফ্লুইড মোজাইক মডেল’। জিনিসটা অনেকটা সমুদ্রের পানিতে ভাসমান বরফখণ্ডের মতো। এই পর্দাটা নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কে কোষের ভেতরে ঢুকবে আর কাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে হবে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘নৈর্বাচনিকভাবে ভেদ্য’ পর্দা।

হেডঅফিস বা মস্তিষ্ক: নিউক্লিয়াস

কোষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো নিউক্লিয়াস। এখানেই থাকে আপনার অস্তিত্বের ব্লু-প্রিন্ট—যাকে আমরা বলি ডিএনএ (DNA)। শুনলে অবাক হবেন, আমাদের প্রতিটি মাইক্রোস্কোপিক কোষের ভেতরে প্রায় ২ মিটার লম্বা একটা ডিএনএ সুতো প্যাঁচানো থাকে! হিস্টোন নামের একটা প্রোটিনের চারপাশে এই ডিএনএ এমন নিখুঁতভাবে সুপার-কয়েল করে রাখা থাকে, যা দেখলে তাবৎ দুনিয়ার ইঞ্জিনিয়াররাও চমকে যাবেন। আপনার চোখের রং কী হবে, আপনার স্বভাব কেমন হবে—সব এই ডিএনএ-এর ভেতর কোড করা আছে।

প্রোটিন বানানোর কারিগর: রাইবোজোম

আমাদের শরীর মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। আর এই প্রোটিন বানানোর কারিগর হলো রাইবোজোম। নিউক্লিয়াস থেকে মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA) যখন নির্দেশ নিয়ে আসে, রাইবোজোম সেটা পড়ে ফটাফট অ্যামাইনো অ্যাসিড জোড়া লাগিয়ে প্রোটিন বানিয়ে ফেলে।

শহরের পাওয়ার হাউস: মাইটোকন্ড্রিয়া

আমরা যে ভাত বা রুটি খাই, সেটা কিন্তু সরাসরি আমাদের শক্তি দেয় না। খাবারটা গ্লুকোজ হয়ে কোষে ঢোকার পর, মাইটোকন্ড্রিয়া অক্সিজেনের সাহায্যে সেটাকে পুড়িয়ে এটিপি (ATP) নামের শক্তির কয়েন বানায়। রাসায়নিক সমীকরণটা একেবারে সাদামাটা:

C6H12O6 + 6O2 → 6CO2 + 6H2O + 36 ATP (বিপুল পরিমাণ শক্তি)।

আপনি যে এখন শ্বাস নিচ্ছেন, চোখের পাতা ফেলছেন—সবই এই শক্তির কারসাজি।

কোষের আত্মঘাতী থলিকা: লাইসোজোম

লাইসোজোম জিনিসটা বড়ই অদ্ভুত। এর ভেতরে থাকে ভয়ঙ্কর সব হজমকারী এনজাইম। যখন কোনো কোষ মারাত্মকভাবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তখন লাইসোজোম বুঝতে পারে যে এই কোষটা বেঁচে থাকলে শরীরের ক্ষতি হবে। তখন সে নিজেই ফেটে গিয়ে পুরো কোষটাকে ধ্বংস করে ফেলে। দেশের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়ার মতো এই ঘটনাকে বিজ্ঞানে বলে ‘অ্যাপোপটোসিস’ (Apoptosis)। এজন্যই একে সুইসাইডাল ব্যাগ বা আত্মঘাতী থলিকা বলা হয়।

গাছ আর মানুষের কোষে তফাতটা কোথায়?

গাছ আর মানুষ তো আর এক জীবনযাপন করে না। গাছকে রোদে-বৃষ্টিতে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, আর আমরা দৌড়াদৌড়ি করি। তাই গাছ তো আর মানুষের মতো নরম কোষ নিয়ে বাঁচতে পারবে না। তাকে ঝড়-বৃষ্টিতে টিকে থাকার জন্য শক্ত কাঠামোর দরকার হয়। আর এই শক্ত দেয়ালটাই হলো সেলুলোজ দিয়ে তৈরি কোষপ্রাচীর, যা আমাদের প্রাণীদের নেই।

আরেকটা ব্যাপার হলো খাওয়া-দাওয়া। গাছ তো আর আমাদের মতো রান্নাঘরে গিয়ে খাবার বানাতে পারে না। তাকে নিজের খাবার নিজের শরীরে বানাতে হয়। এই কাজটা করার জন্য প্রকৃতির নিজস্ব সোলার প্যানেল হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। এই ক্লোরোপ্লাস্ট সূর্যের আলোকে জাদুকরী উপায়ে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে শর্করা বানায়। মানুষ আজও ল্যাবরেটরিতে বসে ক্লোরোফিলের মতো এত নিখুঁতভাবে সূর্যের আলো থেকে খাবার বানানোর কৌশল বের করতে পারেনি।

এই এতসব জেনে আমাদের কী লাভ?

অনেকেই বলেন, “পরীক্ষায় পাস করা ছাড়া এসব জেনে আমার কী লাভ?”

লাভটা এখানেই যে, আজকের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে কোষের এই জ্ঞানের ওপর। এই যে সামান্য একটু কেটে গেলে ক্ষতস্থান নিজে নিজেই ভরে যায়, এটা কীভাবে সম্ভব? এটা সম্ভব কারণ আমাদের প্রতিটি কোষ প্রতিনিয়ত বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ তৈরি করছে।

আমাদের কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট নিয়মে বিভাজিত হয়। কিন্তু ডিএনএ-তে কোনো গন্ডগোল হলে, কোষ তার বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাগলের মতো বাড়তে থাকে। এই অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনই হলো ক্যান্সার বা টিউমার। কোষের সেল সাইকেল বুঝতে পারলেই ক্যান্সার জয় করা সম্ভব।

আবার স্টেম সেল (Stem Cell) নামের এক ধরনের জাদুকরী আদি কোষ আমাদের শরীরে থাকে, যা যেকোনো অঙ্গে রূপান্তরিত হতে পারে। বিজ্ঞানীরা এখন এই স্টেম সেল দিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া হার্ট বা ব্রেনের কোষ নতুন করে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন। একবার ভাবুন তো, আপনার নিজের শরীরের ভেতরের একটা কোষ দিয়ে আপনারই প্রাণ বাঁচানো হচ্ছে!

তাই জীববিজ্ঞান পড়ার সময়, বিশেষ করে কোষ নিয়ে পড়ার সময় জিনিসগুলোকে শুধু বইয়ের পড়া ভাববেন না। এগুলোকে নিজের ভেতরের গল্প হিসেবে ভাবুন। চোখ বন্ধ করে একবার কল্পনা করুন আপনার শরীরের ভেতরে কোটি কোটি কারিগর আপনারই জীবন বাঁচানোর জন্য দিনরাত এক করে খাটছে। দেখবেন, বিজ্ঞান তখন আর কঠিন লাগছে না, বরং একটা থ্রিলার উপন্যাসের চেয়েও বেশি রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে।

আপনাদের মনে আসতে পারে এমন কিছু প্রশ্ন (FAQs)

১. অ্যাবিওজেনেসিস ব্যাপারটা আসলে কী?

সহজ কথায়, কোটি কোটি বছর আগে আদিম পৃথিবীর বৈরী পরিবেশে জড় পদার্থ (গ্যাস ও পানি) থেকে নিজে নিজেই রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রথম প্রাণের সৃষ্টি হওয়ার যে বৈজ্ঞানিক ধারণা, তাকেই অ্যাবিওজেনেসিস বলে।

২. রক্তের লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না কেন?

লোহিত রক্তকণিকার কাজ হলো মালবাহী ট্রাকের মতো সারা শরীরে অক্সিজেন ফেরি করে বেড়ানো। বেশি অক্সিজেন বহন করার জন্য ভেতরে বেশি জায়গা দরকার, তাই বিবর্তনের মাধ্যমে সে নিউক্লিয়াসকে একেবারে ছেঁটে ফেলেছে।

৩. ফ্লুইড মোজাইক মডেল জিনিসটা কী?

এটি কোষঝিল্লির গঠন বোঝানোর সবচেয়ে আধুনিক নিয়ম। কোষের পর্দাটা শক্ত দেয়ালের মতো নয়, বরং ঘন তরলের (ফ্লুইড) মতো। আর এর ভেতরে প্রোটিনগুলো মোজাইক পাথরের মতো ভাসতে থাকে।

৪. লাইসোজোমকে কেন ‘আত্মঘাতী থলিকা’ বলা হয়?

কোষ যখন খুব বুড়ো হয়ে যায় বা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তখন লাইসোজোম ইচ্ছে করে ফেটে গিয়ে নিজের ভেতরে থাকা এনজাইম দিয়ে পুরো কোষটাকেই ধ্বংস করে ফেলে। শরীরের বাকি কোষগুলোকে ভালো রাখতেই সে এই আত্মঘাতী কাজটা করে।

৫. ভাইরাস কি একটা কোষ?

না, ভাইরাস আসলে কোষ না। ওর ভেতরে সাইটোপ্লাজম বা মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো কিছুই নেই। ওটা কেবল একটা প্রোটিনের খামের ভেতর ভরা ডিএনএ বা আরএনএ-এর টুকরো। অন্য কোনো জ্যান্ত কোষের ভেতর না ঢোকা পর্যন্ত ভাইরাস একেবারে জড় পদার্থের মতো পড়ে থাকে।

যে কথাগুলো মনে রাখতে পারেন (Key Takeaways)

  • কোষের জন্ম: আদিম পৃথিবীতে অক্সিজেনহীন পরিবেশে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রথম প্রোটোসেল বা আদি কোষের জন্ম হয়েছিল।

  • আদর্শ কোষ বলে কিছু নেই: প্রকৃতিতে কোনো কোষই অন্য কোষের হুবহু কপি নয়। যার যতটুকু দরকার, সেভাবেই কোষটি তৈরি হয়েছে।

  • শহরের কারিগর: নিউক্লিয়াস হলো কোষের মস্তিষ্ক, রাইবোজোম হলো প্রোটিন বানানোর কারখানা আর মাইটোকন্ড্রিয়া হলো শক্তির জেনারেটর।

  • পার্থক্য: উদ্ভিদ কোষে শক্ত সেলুলোজের দেয়াল এবং খাবার বানানোর জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, যা প্রাণীকোষে নেই।

  • বাস্তব প্রয়োগ: কোষের বিভাজনে ভুল হলেই ক্যান্সার হয়। তাই আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্টেম সেল গবেষণায় কোষের গঠন জানা অপরিহার্য।

আরও গভীরে জানতে চাইলে এই ভিডিওটি একবার দেখে নিন:

মন্তব্য করুন