বাংলায় নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা ও ওষুধ তথ্য

Facticin (ফ্যাক্টিসিন) হলো একটি শক্তিশালী ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ, যা মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের বিভিন্ন জটিল ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি (Square Pharmaceuticals PLC) দ্বারা প্রস্তুতকৃত এই ওষুধটিতে সক্রিয় উপাদান হিসেবে রয়েছে জেমিফ্লক্সাসিন (Gemifloxacin)।
মেডিকেল সতর্কতা: ফ্যাক্টিসিন একটি উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক। এটি কখনোই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া সেবন করা উচিত নয়। অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়মিত বা অসম্পূর্ণ কোর্স ব্যবহারে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে।
Table of Contents
Toggleজনপ্রিয় ব্র্যান্ড নাম: Facticin (ফ্যাক্টিসিন)।
জেনেরিক নাম: Gemifloxacin (জেমিফ্লক্সাসিন)।
ওষুধের শ্রেণি: ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক (Fluoroquinolone Antibiotic)।
উপাদান: প্রতিটি ফিল্ম কোটেড ট্যাবলেটে আছে জেমিফ্লক্সাসিন ৩২০ মি.গ্রা. (জেমিফ্লক্সাসিন মিসাইলেট আইএনএন হিসেবে)।
সরবরাহ/প্যাকেজিং: ১ × ৬ টি ট্যাবলেট স্ট্রিপ প্যাকে।
ফ্যাক্টিসিন সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের নিচে উল্লেখিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় নির্দেশিত:
শ্বাসনালী ও ফুসফুসের সংক্রমণ:
কমিউনিটি অ্যাকুয়ার্ড নিউমোনিয়া (Community-Acquired Pneumonia): Streptococcus pneumoniae, Haemophilus influenzae, Mycoplasma pneumoniae, Chlamydia pneumoniae ইত্যাদি জীবাণু দ্বারা ঘটিত ফুসফুসের প্রদাহ।
দীর্ঘদিনের ব্রংকাইটিসের তীব্র বৃদ্ধি (Acute Bacterial Exacerbation of Chronic Bronchitis): ক্রনিক ব্রংকাইটিস হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে।
সাইনুসাইটিস (Acute Bacterial Sinusitis): ব্যাকটেরিয়াজনিত তীব্র সাইনাসের প্রদাহ।
মূত্রতন্ত্র ও কিডনির সংক্রমণ (Urinary Tract Infections):
তীব্র অজটিল বৃক্কের প্রদাহ (Acute Uncomplicated Pyelonephritis)।
নারীদের অজটিল মূত্রনালীর সংক্রমণ (Uncomplicated Urinary Tract Infection)।
ফ্যাক্টিসিন আহারের আগে বা পরে প্রচুর পরিমাণ পানি দিয়ে সেবন করা যায়। নির্ধারিত স্বাভাবিক মাত্রা হলো দৈনিক ৩২০ মি.গ্রা. (১টি ট্যাবলেট)।
| নির্দেশিত রোগ / সংক্রমণ | দৈনিক মাত্রা | সেবনকাল (সময়সীমা) |
| ক্রনিক ব্রংকাইটিসের তীব্র বৃদ্ধি | ৩২০ মি.গ্রা. (১টি ট্যাবলেট) | ৫ দিন |
| তীব্র ব্যাকটেরিয়াল সাইনুসাইটিস | ৩২০ মি.গ্রা. (১টি ট্যাবলেট) | ৫ দিন |
| কমিউনিটি অ্যাকুয়ার্ড নিউমোনিয়া | ৩২০ মি.গ্রা. (১টি ট্যাবলেট) | ৫ থেকে ৭ দিন (জটিলতার ভিত্তিতে সর্বাধিক ১৪ দিন) |
| মহিলাদের অজটিল মূত্রনালীর সংক্রমণ | ৩২০ মি.গ্রা. (১টি ট্যাবলেট) | ৩ দিন |
| তীব্র অজটিল বৃক্কের প্রদাহ | ৩২০ মি.গ্রা. (১টি ট্যাবলেট) | ১০ দিন |
বৃক্কের জটিলতা (Renal Impairment):
মৃদু থেকে মধ্যম বৃক্কের সমস্যায় মাত্রা পরিবর্তন প্রয়োজন নেই।
মারাত্মক বৃক্ক অকার্যকারিতা (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স < ৪০ মি.লি./মিনিট) অথবা যাদের ডায়ালাইসিস চলে, তাদের ক্ষেত্রে মাত্রা কমিয়ে দৈনিক ১৬০ মি.গ্রা. করতে হয়।
যকৃৎ বা বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে: যকৃতের সমস্যায় বা প্রবীণ রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন নেই।
জেমিফ্লক্সাসিন ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ (DNA) সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য এনজাইম (DNA Gyrase এবং Topoisomerase IV)-কে বাধা প্রদান করে। ফলে ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে পারে না এবং দ্রুত ধ্বংস হয়।
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, বমি, মাথা ব্যথা এবং ত্বকে ফুসকুড়ি (Rash)।
বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ঝিমুনি বা মাথা ঘোরা, অনিদ্রা, ত্বকে চুলকানি, ছত্রাকের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়া।
জরুরি সতর্কতা: ওষুধ সেবনের পর ত্বকে তীব্র র্যাশ বা অ্যালার্জি দেখা দিলে অবিলম্বে ওষুধটি বন্ধ করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
টেনডোনাইটিস ও টেনডোন ফেটে যাওয়া (Tendonitis / Tendon Rupture): ফ্লুরোকুইনোলোন জাতীয় ওষুধের কারণে রগ বা টেনডোনে প্রদাহ বা টান লাগতে পারে (বিশেষ করে বয়স্ক এবং যারা কর্টিকোস্টেরয়েড সেবন করছেন)। পায়ে বা গোড়ালিতে ব্যথা অনুভব হলে অবিলম্বে ওষুধ বন্ধ করে বিশ্রামে যেতে হবে।
যানবাহন ও যন্ত্রপাতি চালনা: ওষুধটি মাথা ঘোরা বা ঝিমুনি আনতে পারে; তাই সেবনকালে মানসিক মনোযোগ প্রয়োজন এমন কাজ বা গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা উচিত।
পর্যাপ্ত পানি পান: প্রস্রাবে ক্রিস্টাল জমা (Crystalluria) রোধ করতে ওষুধ সেবনকালে পর্যাপ্ত পানি পান করা আবশ্যক।
হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন (QTc Prolongation): যাদের হৃদযন্ত্রের ইসিজিতে QTc ইন্টারভাল দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
জেমিফ্লক্সাসিন বা অন্যান্য কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা (Allergy) থাকলে।
পূর্বে কুইনোলোন ব্যবহারের ফলে টেনডোনে ক্ষতি বা আঘাতের ইতিহাস থাকলে।
১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ব্যবহার নিষিদ্ধ।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকাল: এটি গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষেধ। গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী নারীদের জন্য এর নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়।
এন্টাসিড ও আয়রন: অ্যালুমিনিয়াম/ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত এন্টাসিড এবং আয়রন সল্ট একই সাথে খেলে জেমিফ্লক্সাসিনের শোষণ অনেক কমে যায়। তাই এন্টাসিড বা আয়রন সেবনের কমপক্ষে ২ ঘণ্টা আগে বা ৩ ঘণ্টা পরে এটি সেবন করতে হবে।
সুক্রালফেট: সুক্রালফেট খাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে এটি সেবন করতে হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবনের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিডোট (Antidote) নেই। ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়া ওষুধটি শরীর থেকে সম্পূর্ণরূপে বের করার জন্য যথেষ্ট নয়। অতিরিক্ত সেবনের ক্ষেত্রে অবিলম্বে গ্যাস্ট্রিক লেভেজ বা বমি করানোর মাধ্যমে পাকস্থলী খালি করে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
রোগের ধরন ও তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে এটি সাধারণত ৩, ৫ বা ৭ দিন সেবন করতে বলা হয়। চিকিৎসক নির্দেশিত পূর্ণ কোর্স সম্পূর্ণ করা জরুরি।
সাধারণত এন্টাসিড, আয়রন এবং মাল্টিভিটামিনের মতো মিনারেলযুক্ত খাবারের সাথে ২–৩ ঘণ্টার ব্যবধান রাখা ভালো, যাতে ওষুধের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত না হয়।
না। ১৮ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের অনুমোদন নেই।
এই লেখা শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে। ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সুস্থ থাকার প্রধান চাবিকাঠি হলো একটি সচল পরিপাকতন্ত্র। আমরা প্রতিদিন যে শর্করা, আমিষ কিংবা চর্বিযুক্ত খাবার খাই, তা…
মার্চ 9, 2024
আধুনিক যুগের তীব্র প্রতিযোগিতা, মানসিক চাপ কিংবা পারিপার্শ্বিক নানা কারণে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া অত্যন্ত সাধারণ…
মার্চ 9, 2024বাংলায় সহজ ভাষায় ওষুধ নির্দেশিকা, রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার এবং মেডিকেল পাঠ্যক্রম।
© মেডিকেল গুরুকুল। এই সাইটের তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক; ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।