Ticamet Cozycap (টিকামেট কোজিক্যাপ) – ব্যবহার, কাজ, সেবন মাত্রা এবং হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা

দীর্ঘমেয়াদী হাঁপানি (Asthma) বা অ্যাজমা মানুষের ফুসফুসের শ্বাসনালীকে সংকুচিত করে তোলে, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে চরম কষ্ট হয় এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এই ধরণের দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় শ্বাসনালীর প্রদাহ কমানো এবং শ্বাসনালীকে প্রসারিত করে বাতাস চলাচলের পথ সহজ করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী হাঁপানির চিকিৎসায় চিকিৎসকদের দ্বারা বহুল ব্যবহৃত একটি সংমিশ্রিত (Combination) ওষুধ হলো Ticamet Cozycap (টিকামেট কোজিক্যাপ)। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উৎপাদিত এই ড্রাই পাউডার ইনহেলারের (DPI) প্রতিটি ক্যাপসুলে দুটি ভিন্ন গোত্রের উপাদান থাকে, যা যৌথভাবে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আজকের নিবন্ধে আমরা টিকামেট কোজিক্যাপের উপাদান, সঠিক ব্যবহার বিধি, সেবন মাত্রা এবং ব্যবহার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

জরুরি মেডিকেল ডিসক্লেমার (Medical Disclaimer):

টিকামেট কোজিক্যাপ শুধুমাত্র হাঁপানির দীর্ঘমেয়াদী, তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসার (Maintenance Treatment) জন্য নির্দেশিত। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে বা একিউট অ্যাটাকের (Acute attack) জন্য এটি দ্রুত আরামদায়ক (Rescue) ওষুধ নয়। একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ এবং নিয়মিত মনিটরিং ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো এই ওষুধ সেবন করা শরীরের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই নিবন্ধে প্রদত্ত তথ্য কোনোভাবেই পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।

Table of Contents

১. টিকামেট কোজিক্যাপ কী এবং এর উপাদান (Composition)

টিকামেট কোজিক্যাপ হলো মূলত একটি সংমিশ্রিত ইনহেলেশন ওষুধ, যা একটি কর্টিকোস্টেরয়েড এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকোডাইলেটর-এর সমন্বয়ে গঠিত। এটি শ্বাসনালীর প্রদাহ কমিয়ে এবং শ্বাসনালী প্রসারিত করে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখে।

  • ওষুধের শ্রেণি: কর্টিকোস্টেরয়েড এবং লং-অ্যাক্টিং বিটা-২ অ্যাগোনিস্ট (LABA) -এর সংমিশ্রণ।

  • কাজের ধরন:

    • ফ্রুটিকাসোন প্রোপিওনেট: এটি একটি শক্তিশালী কর্টিকোস্টেরয়েড, যা শ্বাসনালীর প্রদাহ এবং ফোলাভাব কমিয়ে দেয়, ফলে শ্বাসনালী সুস্থ থাকে।

    • সালমেটেরল: এটি একটি লং-অ্যাক্টিং বিটা-২ অ্যাগোনিস্ট, যা শ্বাসনালীর পেশীগুলোকে শিথিল করে বাতাস চলাচলের পথ প্রসারিত করে দেয়।

১.১. বাজারে প্রাপ্যতা ও ফর্মসমূহ (Available Strengths & Packaging)

টিকামেট কোজিক্যাপ ড্রাই পাউডার ক্যাপসুল (DPC) আকারে দুটি ভিন্ন শক্তিতে বাজারে পাওয়া যায়:

১. টিকামেট ১০০ কোজিক্যাপ (Ticamet 100 Cozycap): * (প্রতিটি ক্যাপসুলে আছে সালমেটেরল ৫০ মাইক্রোগ্রাম এবং ফ্রুটিকাসোন প্রোপিওনেট ১০০ মাইক্রোগ্রাম)। * প্যাক সাইজ: প্রতিটি বাক্সে ৩০টি ক্যাপসুল থাকে।

২. টিকামেট ২৫০ কোজিক্যাপ (Ticamet 250 Cozycap): * (প্রতিটি ক্যাপসুলে আছে সালমেটেরল ৫০ মাইক্রোগ্রাম এবং ফ্রুটিকাসোন প্রোপিওনেট ২৫০ মাইক্রোগ্রাম)। * প্যাক সাইজ: প্রতিটি বাক্সে ৩০টি ক্যাপসুল থাকে।

২. টিকামেট কোজিক্যাপের প্রধান কাজ ও নির্দেশনাবলী (Indications)

এই ওষুধটি মূলত নিম্নলিখিত চিকিৎসাগত অবস্থায় নির্দেশিত:

১. দীর্ঘমেয়াদী হাঁপানি (Asthma): ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে কর্টিকোস্টেরয়েড এবং ব্রংকোডাইলেটর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী, তত্ত্বাবধায়ক হাঁপানির চিকিৎসায় এটি নির্দেশিত।

২. ব্রংকোস্পাজম: দীর্ঘমেয়াদী হাঁপানির সাথে সংযুক্ত শ্বাসনালীর সংকোচন বা ব্রংকোস্পাজম প্রতিরোধ করতে এবং বাতাস চলাচলের পথ সহজ রাখতে ব্যবহৃত হয়।

জরুরি তথ্য: এটি শুধুমাত্র প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহারের জন্য। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে এটি দ্রুত আরাম দেওয়ার জন্য উপযোগী নয়। এই ধরণের পরিস্থিতির জন্য দ্রুত আরামদায়ক (Rescue) ওষুধ (যেমন—সালবিউটামল ইনহেলার) সর্বদা সাথে রাখা উচিত।

৩. সঠিক ডোজ ও সেবন বিধি (Dosage & Administration)

টিকামেট কোজিক্যাপের সঠিক ডোজ রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং হাঁপানির তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করে থাকেন।

সেবনের সাধারণ নিয়ম: এই ওষুধটি ক্যাপসুল আকারে থাকলেও এটি মুখে গিলতে হবে না। এটি ড্রাই পাউডার ইনহেলার (DPI) ডিভাইসের সাহায্যে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। ইনহেলারটি ব্যবহার করার পূর্বে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ডিভাইসের সঠিক ব্যবহার বিধি চিকিৎসকের থেকে শিখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার উচিত নয়।

  • পূর্ণবয়স্ক এবং ১২ বছর বা তার বেশী: টিকামেট কোজিক্যাপ ড্রাই পাউডার ইনহেলারের ১ টি ক্যাপসুল দিনে ২ বার ১২ ঘণ্টা অন্তর নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া মাত্রা সমন্বয় করা যাবে না।

  • বিশেষ নোট: ব্যবহারের পর মুখে ছত্রাক সংক্রমণ বা গলা ব্যথা এড়াতে ইনহেলার ব্যবহারের পরপরই মুখ ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা এবং গারগল করা উচিত।

৪. বিশেষ সতর্কতা ও পূর্ব সতর্কতা (Precautions)

ওষুধটির উপাদানের কারণে নিম্নলিখিত শারীরিক জটিলতায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক:

১. অতিসংবেদনশীলতা: সালমেটেরল, ফ্রুটিকাসোন বা এই ওষুধের অন্য কোনো উপাদানের প্রতি যাদের তীব্র অসহনশীলতা বা এলার্জি রয়েছে।

২. গ্লুকোমা বা ছানি: যেহেতু এটি কর্টিকোস্টেরয়েডযুক্ত, তাই সরু-কৌণিক গ্লুকোমা (Narrow-angle glaucoma) বা চোখের ছানি (Cataract) রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে, কারণ এটি চোখের চাপ বাড়াতে পারে। চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন একটানা ব্যবহার করবেন না।

৩. প্রোষ্টেট বা মূত্রথলীর সমস্যা: যাদের প্রোষ্টেটিক হাইপারপাসিয়া (Prostatic Hyperplasia) বা মূত্রত্যাগের সমস্যা (Urinary retention) আছে, তাদের ক্ষেত্রেও এটি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।

৪. একিউট অ্যাটাক: হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে (Acute Bronchospasm) এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মারাত্মক ব্রঙ্কোস্পাজমের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা যাবে না।

৫. অন্য ওষুধের সাথে বিক্রিয়া: চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত অন্য ওষুধের সাথে ইহা ব্যবহার করা যাবে না।

৫. প্রতিনির্দেশনা বা যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না (Contraindications)

১. অতিসংবেদনশীলতা: টাইমোনিয়াম মিথাইলসালফেট, সালমেটেরল বা ফ্রুটিকাসোন প্রোপিওনেটের প্রতি যাদের তীব্র অসহনশীলতা বা এলার্জি রয়েছে। শিশুদের জন্য চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ এবং কড়া মনিটরিং ছাড়া এটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শিশুদের ডার্মাটাইটিসের ক্ষেত্রে ব্যবহার নির্দেশিত নয়।

৬. সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (Side Effects)

টিকামেট কোজিক্যাপ নির্দেশিত মাত্রায় সেবনে সাধারণত সুসহনশীল। তবে সেবনের শুরুতে কিছু মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে:

  • নার্ভাস সিস্টেম: মাথা ঝিমঝিম ভাব। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অবনমন অথবা উত্তেজনা, তন্দ্রাচ্ছন্নভাব।

  • পরিপাকতন্ত্র: পরিপাকতন্ত্রের গোলমাল (যেমন—বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা)।

  • অন্যান্য: মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং বমি, গলা ব্যথা বা ফেরিনজাইটিস, সাইনুসাইটিস, স্বরের পরিবর্তন, ওরাল ক্যানডিডিয়াসিস (মুখে ছত্রাক সংক্রমণ), ব্রংকাইটিস। মুখ-নাক-গলার শুষ্কতা, মূত্রত্যাগে অক্ষমতা (Urinary retention) ইত্যাদি। দুর্লভ ক্ষেত্রে আইরিসে প্রদাহ (Iritis) দেখা দিতে পারে।

যদি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয় বা তীব্র আকার ধারণ করে, তবে অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৭. অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া (Drug Interactions)

অকুল্যান্ট সেবনকালে নিম্নলিখিত ওষুধের সাথে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত:

১. অন্যান্য এন্ডিকোলিনার্জিক ওষুধ: অন্যান্য এন্ডিকোলিনার্জিক উপাদানযুক্ত ওষুধের সাথে টিওট্রপিয়াম গ্রহণের কোনো গবেষণা নাই, তাই এটি একসাথে ব্যবহার করার সুপারিশ করা হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত অন্য ওষুধের সাথে নরভিস ব্যবহার করা যাবে না। মাইগ্রেনের চিকিৎসায় জলমিট্রিপ্টান ব্যবহারের কমপক্ষে ১২ ঘণ্টার মধ্যে একই ধরণের অন্য ওষুধ ব্যবহার করা অনুচিত।

৮. গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে ব্যবহার (Pregnancy & Lactation)

  • গর্ভাবস্থা (Pregnancy): গর্ভাবস্থায় এই ওষুধের অতিমাত্রায় এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার পরিহার করা উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভ্রুণের ঝুঁকির তুলনায় লাভের পরিমাণ যাচাই করে তবেই চিকিৎসক এটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। গর্ভাবস্থায় সুপারিশকৃত নয়। গর্ভাবস্থায় ব্যবহার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। ভ্রুণের বৃদ্ধির ক্ষতির তুলনায় লাভের পরিমান যাচাই করে তবেই চিকিৎসক এটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। গর্ভাবস্থা শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথেই এই ওষুধ সেবন বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শে অন্য নিরাপদ ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

  • স্তন্যদানকাল (Lactation): ওলমেসারটান মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয় কিনা মানুষের ক্ষেত্রে জানা যায়নি। তবে প্রাণীর ওপর গবেষণায় (ইঁদুরের ক্ষেত্রে) অল্প মাত্রায় নিঃসৃত হতে দেখা গেছে। স্তন্যদানকালে বাচ্চার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা এবং মায়ের ওষুধ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার দিক পর্যালোচনা করে ওষুধ সেবন অথবা দুগ্ধদান এর যেকোনো একটি পরিহার করতে হবে। টিওট্রপিয়াম মায়ের দুধে নিঃসৃত হয় কিনা জানা যায়নি, তাই স্তন্যদানকালে ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, ত্বকীয় ব্যবহারের কারণে মাতৃদুগ্ধে নিঃসরণের সম্ভাবনা খুবই কম। দুগ্ধদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে সময় উপকারী দিকগুলি তুলনা করতে হবে এবং বাচ্চার ক্ষতিকর প্রভাব সমূহের সাথে উপকারী দিকগুলির তুলনা করতে হবে। তাই স্তন্যদানকালে এটি সেবনের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে টিকামেট কোজিক্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি।

৯. শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার (Pediatric Use)

শিশুদের ক্ষেত্রে ওকুফেন চোখের ড্রপস্-এর নিরাপত্তা এবং কার্যক্ষমতা এখনও প্রতিষ্ঠিত নয়। শিশুদের জন্য চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ এবং কড়া মনিটরিং ছাড়া এটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় করে এটি সেবন করা উচিত। শিশুদের জন্য ওরোস্টার ব্যবহার অনুচিত। টিকামেট কোজিক্যাপ ইনহেলেশন ১২ বৎসর বা তার বেশী বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদী হাঁপানী চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে।

১০. সরবরাহ ও সংরক্ষণ (Storage & Supply)

  • সরবরাহ ও প্যাক সাইজ: টিকামেট ১০০ কোজিক্যাপ ড্রাই পাউডার ক্যাপসুল আকারে ৩০টি ক্যাপসুল সরবরাহ করা হয়। টিকামেট ২৫০ কোজিক্যাপ পাউডার ক্যাপসুল আকারে ৩০টি ক্যাপসুল সরবরাহ করা হয়। কনটেইনার খোলার পর ১ মাসের মধ্যে ওষুধটি ব্যবহার করে শেষ করতে হবে। প্রতিটি বোতলে রয়েছে ৫ মি.লি. দ্রবণ। টিকামেট কোজিক্যাপ ১০ গ্রাম परिমাপের টিউবে जीवाणুমুক্ত দ্রবণ সরবরাহ করা হয়।

  • সংরক্ষণ নিয়ম: ওষুধটি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (২৫-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে) কোনো শুষ্ক ও ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করুন। সরাসরি কড়া সূর্যালোক, তীব্র আলো ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। বোতলের মুখ ব্যবহারের পর শক্ত করে আটকে রাখুন। অবশ্যই শিশুদের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে রাখুন। কনটেইনার খোলার পর ১ মাসের মধ্যে ওষুধটি ব্যবহার করে শেষ করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় করে এটি সেবন করা উচিত।

জনসচেতনতা বার্তা: ওকুফেন আই ড্রপের যৌক্তিক ব্যবহার ও জীবনযাপন গাইডলাইন

রাসায়নিক দিক থেকে ঔষধ একটি ক্রিয়াশীল পদার্থ। তাই বলা হয়, নির্দিষ্ট মাত্রায় ও নির্দিষ্ট রোগে ব্যবহৃত না হলে ঔষধ পরিণত হয় বিষে, যা কেড়ে নিতে পারে একাধিক জীবন। আমাদের সমাজে সামান্য চোখ জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছামতো ওকুল্যান্টের মতো আই ড্রপ এনে বোতল কে বোতল সেবন করতে থাকেন এবং ভাবেন এটি বুঝি সাধারণ কসমেটিক বড়ি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বৈজ্ঞানিক ও চিরন্তন নিয়ম হলো—সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া এবং সুনির্দিষ্ট মাত্রার বাইরে দীর্ঘদিন যেকোনো ওষুধ সেবন শরীরে স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

ঔষধ রাসায়নিক দিক থেকে একটি ক্রিয়াশীল পদার্থ। তাই বলা হয়, নির্দিষ্ট মাত্রায় ও নির্দিষ্ট রোগে ব্যবহৃত না হলে ঔষধ পরিণত হয় বিষে, যা কেড়ে নিতে পারে একাধিক জীবন। ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। মাইগ্রেনের লক্ষণসমূহ থেকে গেলে অথবা পুনরায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেখা গেলে, দ্বিতীয়বার একই মাত্রায় (২.৫ মি.গ্রা.) এই ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় বার ওষুধ গ্রহণ ও প্রথম বারের ওষুধ গ্রহণের মধ্যে কমপক্ষে ২ ঘণ্টার ব্যবধান থাকতে হবে। সচেতনতাই সুস্থ জীবনের মূল ভিত্তি।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. ওকুফেন আই ড্রপ লাগানোর কতক্ষণ পর কন্টাক্ট লেন্স পরা যাবে?

উত্তর: না, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওকুল্যান্ট আই ড্রপ কন্টাক্ট লেন্স পরা অবস্থায় ব্যবহার করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় করে এটি সেবন করা উচিত। ব্রোমফেনাক আই ড্রপ ব্যবহার করার সময় কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার পরিহার করা ভালো। শিশুদের জন্য চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ এবং কড়া মনিটরিং ছাড়া এটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে ‘রিলিভার ইনহেলার’ (যেমন—সালবিউটামল) ব্যবহার করতে হয়। Ticamet Cozycap হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে ব্যবহারের জন্য Rescue ইনহেলার নয়।

২. দিনে কতবার এই ইনহেলার ব্যবহার করা উচিত?

উত্তর: ওকুল্যান্ট ড্রপটি সাধারণত প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে চিকিৎসকের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সাধারণত চিকিৎসকেরা ১ ফোটা করে আক্রান্ত চোখে দিনে ২ বার লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। টিকামেট কোজিক্যাপ দিনে একবার ১ ফোটা করে আক্রান্ত চোখে বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। এটি কোনো উদ্দীপক বা তীব্র জোলাপ নয় যে খাওয়ার সাথে সাথেই পেট মোচড় দিয়ে পায়খানা হবে। বৃহদান্ত্রে গিয়ে ল্যাকটুলোজের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ভাঙতে এবং পানি টেনে মল নরম করতে সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা (১ থেকে ২ দিন) সময় লাগে। কাঙ্ক্ষিত নিয়ন্ত্রণে আসতে সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসকের নির্দেশিত মেয়াদে এটি সেবন করতে হবে। মাইগ্রেনের ব্যথার চিকিৎসায় জলমিট্রিপ্টান ২-৬ টি ট্যাবলেট (১০০ মি.গ্রা. থেকে ৩০০ মি.গ্রা.) দিনে ২ বার বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা হয়।

৩. এই ওষুধটি কি শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে?

উত্তর: না, শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং কার্যক্ষমতা এখনও প্রতিষ্ঠিত নয়। শিশুদের জন্য চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ এবং কড়া মনিটরিং ছাড়া এটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় করে এটি সেবন করা উচিত। শিশুদের জন্য ওরোস্টার ব্যবহার অনুচিত। ১২ বৎসর বা তার বেশী বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদী হাঁপানী চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে।

মন্তব্য করুন